প্রাচীন ভারতের ইতিহাস-ষোড়শ মহাজনপদ-বৌদ্ধ-জৈন – মৌর্য্য-কুষান -বংশ

0
3

          ইতিহাসকে ভাল করে জানতে হলে ইতিহাসের কালপঞ্জী সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকা দরকার। এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে কালপঞ্জী তুলে ধরা হলো। নিখুঁতভাবে সঠিক সময়পঞ্জী বের করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য পুঁথি, শিলালিপি, ঐতিহাসিক গ্রন্থ থেকে যেটুকু জানা যায় তার উপর ভিত্তি করে একটা আনুমানিক সময় পঞ্জী দেওয়া হলো। ঐতিহাসিক ভেদে এই সময়পঞ্জী ভিন্ন হতে পারে।

                   ভারতীয় উপমহাদেশের সময়পঞ্জী

** সময়পঞ্জীর সবুজ করা অংশটি এই অধ্যায়ে আলোচনা করা হল।

  • প্রস্তর যুগঃ ———-৭০০০০ – ৩৩০০ খ্রীষ্ট পূর্ব
  • মেহেরগড়ঃ ———-৭০০০ – ৩৩০০ খ্রীষ্ট পূর্ব
  • সিন্ধু সভ্যতাঃ ———৩৩০০ – ১৭০০ খ্রীষ্ট পূর্ব
  • বৈদিক যুগঃ ———-১৫০০ – ৫০০ খ্রীষ্ট পূর্ব
  • লৌহ যুগঃ ———–১২০০ – ৩৩০ খ্রীষ্ট পূর্ব
  • কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধঃ ——-১০০০ খ্রীষ্ট পূর্ব
  • ষোড়শ মহাজনপদঃ ——৭০০ – ৩০০ খ্রীষ্ট পূর্ব
  • হজরত মহম্মদের জন্মঃ —-৫৭০ খ্রীষ্ট পূর্ব
  • গৌতম বুদ্ধের জন্মঃ—— ৫৬৩ খ্রীষ্ট পূর্ব
  • মহাবীরের জন্মঃ ——–৫৪০ খ্রীষ্ট পূর্ব
  • আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমনঃ —–৩২৬  খ্রীষ্ট পূর্ব
  • মৌর্য্য সাম্রাজ্যঃ——– ৩২১ -১৮৫ খ্রীষ্ট পূর্ব
  • গুপ্ত সাম্রাজ্যঃ ———৩২০ খ্রীষ্টাব্দ -৪৬৭ খ্রীষ্টাব্দ
  • মহাভারত লিখিত হয়ঃ —৪০০ খ্রীষ্টাব্দে (সময় কাল ১০০০ খ্রী.পূ. -৪০০ খ্রী.)
  • হর্ষ যুগঃ ———–৬০৬ -৬৪৭ খ্রীষ্টাব্দ
  • রামায়ন লিখিত হয়ঃ —১২০০ খ্রীষ্টাব্দে ( সময় কাল ৫০০ খ্রী.পূ. -১২০০ খ্রী.)
  • সুলতানি যুগঃ ——-১২০৬ – ১৫২৬ খ্রীষ্টাব্দ
  • মোগল যুগঃ ——–১৫২৬ – ১৭০৭ খ্রীষ্টাব্দ
  • মারাটা সাম্রাজ্যঃ —–১৬৭৪  -১৮১৮ খীষ্টাব্দ
  • শিখ সাম্রাজ্যঃ ——-১৭৯৯ খ্রী. -১৮৪৯ খীষ্টাব্দ
  • ব্রিটিশ ভারতঃ ১৮৫৮ খ্রী. -১৯৪৭ খীষ্টাব্দ

ষোড়শ মহাজনপদঃ-

  • খ্রীষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতক থেকে কোন বৃহত্তর রাজশক্তির অস্তিত্ব ভারতবর্ষে পাওয়া যায় না। পানিনির রচনা এবং বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ থেকে জানা যায় ১৬ টি ক্ষুদ্র রাজ্য বা মহাজনপদ ঐ সময় বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে শাষন করত।
  • ১৬ টি রাজ্য হল যথাক্রমে  — কাশী, কোশল, অঙ্গ, মগধ, বৃজি, মল্ল, চেদি, বৎস, কুরু, পাঞ্চাল, মৎস, সুরসেন, অস্মক, অবন্তি, গান্ধার এবং কম্বোজ।
  • এদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল—মগধ, অবন্তি, কাশী, কোশল এবং বৃজি।
  • বৃজি এবং মল্ল ছিল প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র।।

বৌদ্ধ:-

  • বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা—গৌতম বুদ্ধ।
  • ধর্ম গ্রন্থঃ- ত্রিপিটক। ত্রিপিটক পালি ভাষায় রচিত কিন্তু গৌতম বুদ্ধ তাঁর বাণী গুলি পরাকৃত বা অর্ধ মাগধি ভাষায় প্রচার করেন
  • ত্রিপিটক তিনটি ভাগে বিভক্ত যথা,– বিনয় পিটক, সুত্ত পিটক এবং অভিধম্ম পিটক ।
  • বিনয় পিটক এ—— বৌদ্ধ ভিক্ষু দের জন্য বিধান দেওয়া আছে এবং সংঘ পরিচালনার নিয়ম কানুন বলা আছে।
  • সুত্ত পিটক এ——— বৌদ্ধ ধর্মের নীতি গুলি লিপিবদ্ধ করা আছে।
  • অভিধর্ম পিটক এ—- বৌদ্ধ ধর্মের দার্শনিক বিষয়গুলি লিপিবদ্ধ করা আছে ।
  • গৌতম বুদ্ধঃ-

    • জন্ম= নেপালের কপিলাবস্তু রাজ্যের লুম্বিনী নামক গ্রামে খ্রীষ্টপূর্ব ৫৬৩ অব্দে।
    • মৃত্যু=খ্রীষ্টপূর্ব ৪৮৩ অব্দে, ৮০ বছর বয়সে কুশিনগরে দেহত্যাগ করেন।
    • পিতা – শুদ্ধোদন, মাতা- মায়াদেবী, স্ত্রী= গোপা বা যশোধরা,  ছেলে= রাহুল ।
    • মহাভিনিষ্ক্রমন = ২৯ বছর বয়সে। গৃহত্যাগ করে সন্যাস ধর্ম গ্রহন।
    • বোধী লাভ =৩৫ বছর বয়সে বুদ্ধ গয়ায় নৈরঞ্জনা নদীর তীরে একটি অশ্বত্থ গাছের নিচে বসে ।
    • প্রথম বানী প্রচার করেন = সারনাথ-এ।
    • গৌতম বুদ্ধের ঘোড়ার নাম কন্টক এবং সারথি ছিল ছন্ন।
    • গৌতম বুদ্ধের চিকিৎসক ছিলেন জীবক
  • আর্যসত্য, অষ্টাঙ্গিক মার্গ – বৌদ্ধদের নীতি ।
  • বৌদ্ধরা কর্মফল ও জন্মান্তরে বিশ্বাস করেন।
  • জৈন ধর্মগ্রন্থ দ্বাদশ অঙ্গ প্রাকৃত ভাষায় রচিত, কিন্তু ত্রিপিটক পালি ভাষায় রচিত ।
  • সুত্ত পিটকের অন্তর্গত জাতক নামক অংশ থেকে –গৌতম বুদ্ধের পূর্বজন্মের কথা জানা যায় ।
  • বৌদ্ধ সম্প্রদায় দুটি ভাগে বিভক্ত= হীনযান ও মহাযান ।
  • মগধ রাজ বিম্বিসার বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেন এবং তার শিষ্যত্ব গ্রহন করেন।
  • একজন হীনজান বৌদ্ধ ছিলেন – নাগার্জুন।
  • জাতক—পালি ভাষায় রচিত। জাতক থেকে জানা যায় বুদ্ধের পূর্ববর্তী জীবন যখন তিনি বোধিসত্ত্ব নামে পরিচিত ছিলেন।
  • বুদ্ধের প্রথম প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়-মথুরা স্কুল অফ আর্ট থেকে।
  1. প্রথম বৌদ্ধ সম্মেলনঃ-খ্রীষ্টপূর্ব ৪৮৩ অব্দে অজাতশত্রুর রাজত্বকালে রাজগৃহে অনুষ্ঠিত হয়, নেতৃত্ব দেন মহাকাশ্যপ। সুত্ত ও বিনয় পিটক এই সম্মেলনে লেখা হয়।
  2. দ্বিতীয় বৌদ্ধ সম্মেলনঃ-গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর ১০০ বছর পর বৈশালীতে হয়।
  3. তৃতীয় বৌদ্ধ সম্মেলনঃ-খ্রীষ্টপূর্ব ২৫০ অব্দে অশোকের সময় পাটলিপুত্রে হয়। নেতৃত্ব দেন মোগালিপুত্র তিসা । অভিধম্ম পিটক লেখা হয়। ধর্ম্প্রচারের উদ্দেশ্যে বাইরে দূত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
  4. চতুর্থ বৌদ্ধ সম্মেলনঃ-১০০ খ্রীষ্টাব্দে কনিষ্কের রাজত্বকালে জলন্ধর (কাশ্মীর) এ অনুষ্ঠিত হয়। নেতৃত্ব দেন বসুমিত্র । বৌদ্ধরা হীনজান ও মহাজানে ভাগ হয়ে যায়।

জৈন:-

  • প্রতিষ্ঠাতা— ঋষভনাথ ।
  • ধর্মগ্রন্থঃ- দ্বাদশ অঙ্গ। ইহা অঙ্গ, উপাঙ্গ, মূল ও সুত্র এই চারটি ভাগে বিভক্ত।
  • জৈন ধর্মে দুটি সম্প্রদায়ঃ- শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর। দিগম্বর রা কোন বস্ত্র পরিধান করে না।
  • জৈন ধর্মে মোট ২৪ জন গুরু বা তীর্থঙ্কর বা ধর্মপ্রচারকের কথা জানা যায়।
  • ১ম তীর্থঙ্কর—ঋষভনাথ ।
  • ২৩ তম তীর্থঙ্কর—পার্শনাথ।
  • ২৪ তম এবং শেষ তীর্থঙ্করবর্ধমান মহাবীর
  • জৈন ধর্মের মৌলিক নীতিগুলি পার্শ্বনাথ রচনা করে যান। খ্রীষ্টপূর্ব ৭০০ অব্দে।
  • বর্ধমান মহাবীরঃ

    • জন্ম-৫৪০ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে, বৈশালীর কুন্ডগ্রামে।
    • মৃত্যু- ৪৬৯ খ্রী.পূর্বাব্দে ৭২ বছর বয়সে রাজগৃহের নিকট পাবাপুরিতে দেহত্যাগ করেন।
    • পিতা –সিদ্ধার্থ, মাতা-ত্রিশলা, ভ্রাতা-নন্দীবর্মন। স্ত্রী-যশোদা, কন্যা- আনোজ্জা।
    • ৪২ বছর বয়সে কৈবল্য লাভ করেন, ঋজুপালিকা নদীর তীরে একটি শাল গাছের নীচে বসে।
  • মগধ রাজ বিম্বিসার, অজাতশত্রু, কলিঙ্গরাজ খারবেল এবং মৌর্য্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত  জৈন ধর্ম গ্রহন করেন।
  • জৈন ধর্মানুযায়ী জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হল- আত্মার শুদ্ধিকরন ।
  • ত্রিরত্ন কে আরোপ করেন ? –– মহাবীর ।
  • ত্রিরত্ন=সৎ জ্ঞান, সৎ চিন্তা, সৎ কাজ।
  • ত্রিরত্ন, পঞ্চব্রত, সায়েদ-ভাদা, কল্পসুত্র, দ্বাদশ অঙ্গ- সব জৈনদের নীতি।
  • অমোঘবর্ষ একটি জৈন গ্রন্থ—লেখক রাষ্ট্রকূট রাজা অমোঘবর্ষ।
  • কল্পসুত্র একটি –জৈন দর্শন।
  • ভুবনেশ্বরের নিকট উদয়গিরি এবং খন্ডগিরিতে—-জৈন ধর্মাবলম্বীদের জানা যায় ।
  1. প্রথম জৈন মহাসভাঃ-জৈন সন্ন্যাসী স্থূলভদ্র আহ্বান করেন, ৩০০ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে পাটলিপুত্রে। এই সভায় ১২ টি অনুশাসন গ্রহন করা হয়।
  2. দ্বিতীয় জৈন মহাসভাঃ-খ্রীষ্টিয় ৫ম শতকে আহ্বান করা হয়, গুজরাটের বলভীতে। এই সভায় দ্বাদশ অঙ্গ এবং দ্বাদশ উপাঙ্গ পরিশেষে সংকলন করা হয়।

মৌর্য সাম্রাজ্য

  • চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ৩২২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে নন্দ সম্রাট ধননন্দকে পরাজিত করে পাটলিপুত্র দখল করেন এবং মৌর্য সাম্রাজ্যের সূচনা করেন
  • এই কাজে তাকে সহায়তা করেন চাণক্য।
  • রাজধানী ছিল—পাটলিপুত্র।

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যঃ-

    • ৩৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পাটলিপুত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
    • ২৯৮ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে শ্রাবণবেলেগলায় দেহত্যাগ করেন।
    • চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের রাজত্বকালে সেলুকাসের দূত হিসেবে মেগাস্থিনিস ভারতে আসেন।
    • মেগাস্থিনিস ইন্ডিকা গ্রন্থ রচনা করেন।
    • চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য জৈন আচার্য ভদ্রবাহুর নিকট শিক্ষা লাভ করে জৈন ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ৪২ বছর বয়সে সিংহাসন ত্যাগ করেন।
      কথিত আছে শ্রাবনবেলেগলায় সল্লেখনা বা স্বেচ্ছা উপবাস করতে করতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

*************************************

  • চন্দ্রগুপ্তের মৌর্য্যের পর ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে বসেন তার পুত্র বিন্দুসার ।
  • বিন্দুসারের উপাধি ছিল অমিত্রঘাত

অশোকঃ-

  • বিন্দুসারের মৃত্যুর পর তার ছেলে অশোক সিংহাসনে বসেন।
  • সিংহাসনে বসার চার বছর পর অশোকের রাজ্যাভিষেক  হয়।
  • অশোক অশোক তার ৯৯ ভাইকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেন এই জন্য তার নাম হয় চন্ডাশোক
  • ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে জেমস প্রিন্সেপ অশোকের শিলালিপির পাঠোদ্ধার করেন
  • অশোকের শিলালিপি গুলির বেশির ভাগই ব্রাহ্মী লিপিতে- প্রাকৃত ভাষায় খোদাই করা।
    অশোক মোট ১৪ টি প্রধান শিলালিপি খোদাই করেন।
  • ত্রয়োদশ শিলালিপি থেকে কলিঙ্গ যুদ্ধের কথা জানা যায়।
  • অশোক তার ষষ্ঠ শিলালিপিতে বলেছেন -, “সবে মুনিষে প্রজা মম।”
  • কলিঙ্গ যুদ্ধ হয়েছিল ২৬১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে।
  • অশোক তার ছেলে মহেন্দ্র এবং মেয়ে সংঘমিত্রা কে ধর্ম প্রচারের জন্য সিংহলে পাঠান।
  • বিভিন্ন শিলালিপি থেকে জানা যায় অশোকের আরো অনেক উপাধি ছিল, চন্ডাশোক, ধর্মাশোক, প্রিয়দর্শী, দেবানমপ্রিয় ইত্যাদি।
  • ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের প্রতীক চিহ্নটি অশোকের সারনাথের স্তম্ভ থেকে নেওয়া হয়েছে।
  • বৌদ্ধ পণ্ডিত উপগুপ্তর নিকট  অশোক বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা নেন।
  • অশোকের সময় পাটলিপুত্রে ২৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে তৃতীয় বৌদ্ধ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
  • অশোক শ্রীনগর শহর প্রতিষ্ঠা করেন।

************************************

  • মৌর্য বংশের শেষ রাজা ছিলেন বৃহদ্রথ
  • বৃহদ্রথ কে তার ব্রাহ্মণ সেনাপতি পুষ্যমিত্র সুঙ্গ হত্যা করেন এবং সেই সাথে ১৮৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সুঙ্গ রাজবংশের সূচনা করেন।

চাণক্যঃ-

  • চাণক্যের অপর নাম বিষ্ণু গুপ্ত এবং কৌটিল্য ।
  • চাণক্য বর্তমান পাকিস্তানের তক্ষশীলায় জন্মগ্রহণ করেন।
  • চানক্য ছিলেন প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিক অর্থনীতিবিদ এবং রাজ উপদেষ্টা
  • চাণক্য অর্থশাস্ত্র নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন।
  • অর্থশাস্ত্র একটি রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ, এই গ্রন্থ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি সম্পর্কে জানা যায় ।
  • চাণক্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং অর্থনীতি বিষয়ে প্রাচীন ভারতের একজন সুপন্ডিত ছিলেন।
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পান্ডিত্যের জন্য তাকে ভারতের মেকিয়াভেলি বলা হয়।
  • তিনি তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীকালে তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর অধ্যাপক নিযুক্ত হন ।
  • চানক্যের সহায়তায় মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য সিংহাসন লাভ করেন।
  • চাণক্য প্রথমে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এবং পরবর্তীকালে তার ছেলে বিন্দুসারের রাজ উপদেষ্টা ছিলেন।
  • চাণক্য বিষ্ণুর উপাসক ছিলেন এবং বেদ সম্পর্কে একজন সুপন্ডিত ছিলেন।

আলেকজান্ডারঃ-

  • আলেকজান্ডার ছিলেন গ্রীসের মেসিডোনিয়ার রাজা।
  • আলেকজান্ডার ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ভারত আক্রমণ করেন।
  • ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ আলেকজান্ডার এর সাথে পুরুর যুদ্ধ হয়। ঝিলাম নদীর তীরে এই যুদ্ধ হিদাস্পিসের যুদ্ধ নামে খ্যাত আলেকজান্ডার ভারতে ছিলেন ১৯ মাস।
  • ৩২৩ খৃস্ট পূর্বাব্দে আলেকজান্ডার ব্যাবিলনে মারা যান।
  • আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমনের ফলে—  প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের সংযোগ ঘটে। ভারতীয় শিল্প এবং গ্রীক শিল্পের সমন্বয়ে গান্ধার শিল্প গড়ে ওঠে। ভারতে দাস প্রথা সৃষ্টি হয়। ভারতীয় ইতিহাসের সন তারিখ সঠিকভাবে নির্নয় করতে সুভিদা হয় ।

মৌর্য্য সাম্রাজ্যের পতনের পর মগধের সিঙ্ঘাসনে শুঙ্গ, কান্ব এবং সাতবাহন বংশীয়রা রাজত্ব করে।এরা পূর্ব ভারত এবং মধ্য ভারতের বিস্তীর্ন অঞ্চলে আধিপত্য কায়েম করেছিল। কিন্তু উত্তর-পশ্চিম ভারতে তখন কিছু মধ্য এশিয়ার বহিরাগত যেমন ইন্দো-গ্রীক, শক, পার্থিয়ান, কুষান ইত্যাদি শক্তির উত্থান ঘটে।

শুঙ্গ বংশঃ-

  • শুঙ্গ বংশের প্রতিষ্ঠাতা পুষ্যমিত্র শুঙ্গ।
  • মৌর্য বংশের শেষ রাজা বৃহদ্রথ কে হত্যা করে পুষ্যমিত্র শুঙ্গ ১৮৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ শুঙ্গ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
  • শুঙ্গ বংশের এক রাজা অগ্নিমিত্রকে নিয়ে কালিদাস রচনা করেছিলেন মালবিকাগ্নিমিত্রম
  • শুঙ্গ বংশের রাজত্বকালে পতঞ্জলি মহাভাষ্য রচনা করেন।
    মহাভাষ্য হল পাণিনির অষ্টাধ্যয়ীর ওপর একটি টিপ্পনী।

কান্ব বংশঃ-

  • বংশের প্রতিষ্ঠাতা বাসুদেব

কলিঙ্গঃ-

  • উড়িষ্যার ভুবনেশ্বর এর নিকট প্রাপ্ত হাতিগুম্ফা শিলালিপি থেকে কলিঙ্গের চেদী বংশের কথা জানা যায়।
  • হাতিগুম্ফা শিলালিপি থেকে কলিঙ্গ রাজা খারবেলের কথা জানা যায়।
  • এই বংশের তৃতীয় রাজা  খারবেল জৈন ধর্ম গ্রহণ করেন এবং সেই উদ্দেশ্যে ওড়িশার উদয়গিরির নিকট গুহা তৈরি করেন এবং সেখানে এই হাতিগুম্ফা শিলালিপি খোদাই করেন ।

সাতবাহন

  • রাজধানী ছিল –প্রতিষ্ঠান বা পৈঠান।
  • প্রথম রাজা –শিমুক।
  •  নানঘাট শিলালিপি থেকে সাতবাহন বংশের রাজা  —- প্রথম সাতকর্নীর কথা জানা যায়।
  • প্রথম সাতকর্নীর উপাধি ছিল—-“দক্ষিনাপথপথি” ।
  • সাতবাহন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন- —- গৌতমী পুত্র সাতকর্নী।
  • নাসিক শিলালিপি থেকে সাতবাহন বংশের রাজা —–গৌতমী পুত্র সাতকর্নীর কথা জানা যায়।
  • সাতবাহনদের সময়  রাজদরবার থেকে ব্রাহ্মনদের ভুমিদান প্রথা চালু হয়।উদ্দ্যেশ্য ছিল অন্যের তথ্যাবধানে কৃষিজমির পরিমান বাড়ানো।
  • সাতবাহন রাজার রাজা বৌদ্ধধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের সর্বপ্রথম ভূমি দান করেন।
  • সাতবাহন রাজারা সর্বপ্রথম সীসার মুদ্রা প্রচলন করেন ।
  • সাতবাহন রাজারা সর্বপ্রথম মুদ্রায় রাজাদের ছবি প্রকাশ করেন।
  • এই সময়ে বৌদ্ধ মন্দির গুলোকে বলা হতো চৈত্য  এবং বিহার ।
  • “গাথাসপ্তশতী”  লেখেন — সাতবাহন রাজা হলা।

 

মগধ সাম্রাজ্য পতনের পর ২০০ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে ভারতে অনেক বৈদেশিক আক্রমন ঘটে। উত্তর-পশ্চিম ভারতে তখন কিছু মধ্য এশিয়ার বহিরাগত যেমন ইন্দো-গ্রীক, শক, পার্থিয়ান, কুষান ইত্যাদি শক্তির উত্থান ঘটে। মধ্য এশিয়ার আগমনে ভারতের সাহিত্য এবং শিল্পের জগতে অনেক পরিবর্তন দেখা যায়। এই সময় বাৎসায়ন “কামসুত্র” রচনা করেন। এই সময় ভারতে প্রথম মূর্তিপূজার প্রচলন শুরু হয়। প্রথম মূর্তি ছিল “বুদ্ধ”।

ইন্দো-গ্রীকঃ-

  • এদের বিখ্যাত রাজা মিনান্দার। মিনান্দার কে মিলিন্দাও বলা হয়।
  • মিনান্দার নাগসেনের কাছ থেকে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা নেন।
  • পালি ভাষায় রচিত “মিলিন্দ-পনহো”-তে নাগসেন এবং মিনান্দারের কথোপকথন বর্নিত আছে।
  • গ্রীকরা প্রথম রাজাদের নামাঙ্কিত মুদ্রার প্রচলন করেন।
  • গ্রীকরা ভারতে প্রথম স্বর্ণ মুদ্রার প্রচলন করেন।
  • গ্রীকরা ভারতে গান্ধার শিল্পের প্রচলন করেন।

পার্থিয়ানঃ-

  • পার্থিয়ান দের বিখ্যাত রাজা ছিল গন্ডোফার্নিস।(১৯-৪৫ খ্রী.)
  • গন্ডোপার্নিসের সময় খ্রীষ্ট ধর্ম প্রচারের জন্য সেন্ট থমাস ভারতে আসেন।

শকঃ-

  • শকদের প্রথম সম্রাট- মৌস বা মোগা (৮০ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে)
  • ভারতে শকদের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন—প্রথম রুদ্রদামন।(১৩০-১৫০ খ্রী.)
  • রুদ্রদামনের কথা—জুনাগড় শিলালিপি থেকে জানা যায়।
  • রুদ্রদামন  “মহাক্ষত্রপ” উপাধি ধারন করেন।
  • রুদ্রদামন , সাতবাহন রাজা গৌতমীপুত্র সাতকর্ণীকে পরাস্থ করেন।
  • রুদ্রদামনের সময় সস্কৃত ভাষা প্রথম রাজভাষার মর্যাদা পায়।

কুষানঃ-

  • কুষানরা —– ইউ চি জাতির শাখা।
  • কুষান বংশের প্রতিষ্ঠাতা— কুজুল কদফিসেস
  • ভারতে কুষান বংশের প্রতিষ্ঠাতা— বিম কদফিসেস
  • প্রথম কুষান সম্রাট —– কুজুল কদফিসেস।
  • ভারতে প্রচুর সংখ্যক সোনার মুদ্রার প্রচলন করেন- —–কুষান সম্রাট বিম কদফিসেস ।
  • কুষান বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা –কনিষ্ক।(৭৮ -১৪৪ খ্রী.)
  • কণিষ্ক সিঙ্ঘাসনে বসে্ন –৭৮ খ্রীষ্টাব্দে, এই সাল থেকেই শকাব্দের প্রচলন হয় ।
  • কণিষ্কের রাজধানী —- পুরুষপুর বা পেশোয়ার এবং মথুরা।
  • কণিষ্কের রাজসভায় বিরাজ করতেন — অশ্বঘোষ, নাগার্জুন, বসুমিত্র এবং চরকের মত বিদ্বজনেরা।
  • কণিষ্কের সভাকবি ছিলেন —-অশ্বঘোষ।
  • অশ্বঘোষ “বুদ্ধচরিত” রচনা করেন।
  • কণিষ্কের চিকিৎসক ছিলেন —-চরক।
  • বসুবন্ধুর সভাপতিত্বে, কণিষ্ক কাশ্মিরে চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতির আয়োজন করেন।
  • গান্ধার স্কুল অফ আর্ট কনিষ্কের সময়ে চরম সাফল্য লাভ করে।
  • শেষ স্বাধীন কুষাণ সম্রাট ছিলেন- বসুবন্ধু।

সঙ্গম যুগঃ-

  • সঙ্গম যুগ বলতে — মৌর্য্য দের পরে এবং গুপ্তদের আগের যুগকে বোঝায়।
  • সঙ্গম যুগে তিনটি বৃহৎ সম্মেলন হয়েছিল।
  • “তোল্কাপিয়াম” হল একটি তামিল ব্যকরণ — লেখেন তোল্কাপিয়ের।
  • “শিলাপদিকরম” এবং “মনিমেঘলাই” — সঙ্গম যুগের দুটি মহাকাব্য।
  • শিলাপদিকরম লেখেন — আদিগল ।
  • মনিমেঘলাই লেখেন — তিরুত্তাকাদেবর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here